জেনে রাখুন বাংলাদেশের ২৫ পিঠাপুলির নাম ও তৈরির প্রণালী " পর্ব ০৩ "


পিঠাপুলির নাম

ধান কাঁটা উৎসবে কৃষকের ঘরে যখন নতুন ধান ওঠে সেই ধান ঢেকিতে ভেঙ্গে, তৈরী হয় নানা রকম পিঠাপুলির, নতুন চালের ভাত। সেই উপলক্ষে হয় নবান্ন উৎসব!! শীতকালের আবার খেঁজুর গাছের রস জ্বাল দিয়ে গুড়ও বাড়িতেই বানিয়ে ফেলে গ্রামে গন্জের বৌ ঝিয়েরাই। তাই দিয়ে পুরো শীতকাল জুড়েই চলতে থাকে বাড়িতে বাড়িতে পিঠাপুলির তৈরীর গমগমে আমেজ।
যদিও পিঠাপুলির মৌসুম বলতে আমরা শীতকালকেই বুঝি তবুও পহেলা বৈশাখে ও নানা উৎসবে সারা বছর জুড়েই আমরা বাঙ্গালীরা খাই নানা রকম পিঠা। শরৎকালে আবার বানানো হয় তালের পিঠা, তালের বড়া আবার সেদিন খেলাম তালের পোরোটা। এমন মজার একটা জিনিস সে তাল থেকে হতে পারে আমি সত্যিই জানতাম না যদি না সেদিন আমার এক কলিগ তা আমাকে বানিয়ে না খাওয়াতো।
যাইহোক ঢাকা শহরের ফুটপাতে ফুটপাতে, ফাস্টফুড শপে এবং নানা রকম পিঠার দোকানেও সবচাইতে বেশী যে পিঠাটা দেখা যায় তা ভাপাপিঠা। ছেলেবুড়ো হতে শুরু করে তরুন তরুনি এমনকি অনেক অনেক টিন এইজ ছেলেমেয়েদের পছন্দের তালিকাতেও রয়েছে এই বহুল পরিচিত ভাপা পিঠা।তবে শীতের পিঠা বলতে শুধু ভাপা পিঠাই বুঝায় না। শীতের পিঠায় রয়েছে আরও আরও নানা রকম পিঠা সব গুলোর নাম নিশ্চয়ই কেউই বলে শেষ করতে পারবেনা। তবুও যতগুলো জানি বা মনে পড়ে সেসব পিঠার নাম ও পিঠা বানাবার কৌশল গুলো লিখে রাখছি আমি আমার এ ব্লগের পাতায় যেন পুরো শীতকাল জুড়ে যখনই পিঠা খাবার সাধ হবে বানিয়ে ফেলতে পারি পিঠাপুলি।
৫১. ডিমের ঝাল পোয়াপিঠাআতপ চালের গুঁড়া ১ কাপ সেদ্ধ চালের গুঁড়া ১ কাপ ময়দা আধা কাপ ডিম ২টি পেঁয়াজ মিহি কুচি সিকি কাপ কাঁচামরিচ কুচি ২ চা চামচ ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ লবণ পরিমাণমতো চিনি আধা চা চামচ কুসুম গরম পানি পরিমাণমতো, বেকিং পাউডার আধা চা চামচ তেল ভাজার জন্য
আতপ চাল ও সেদ্ধ চালের গুঁড়া, ময়দা, বেকিং পাউডার, চিনি একসঙ্গে খুব ভালো করে মিলিয়ে নিতে হবে। পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা, লবণ একসঙ্গে ভালো করে চটকিয়ে ডিম দিয়ে মাখিয়ে ময়দার মিশ্রণে মেলাতে হবে।একটু পানি দিয়ে গোলা করে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, গোলা যেন খুব পাতলা না হয়ে যায়। তেল গরম করে সিকি কাপ পরিমাণ গোলা ছাড়তে হবে। পিঠা ফুলে উঠলে উল্টিয়ে দিয়ে কাঠি দিয়ে পিঠার মাঝখানে ছিদ্র করে ভেতরের বাতাস বের করে দিতে হবে। পিঠা ভাজা হলে চুলা থেকে নামিয়ে টমেটো সস অথবা গ্রিন চিলি সসের সঙ্গে পরিবেশন করা যায়।
৫২. লাল পুয়া পিঠাআতপ চালের গুঁড়া ৩ কাপ, মিহি করে বাটা নারকেল আধা কাপ, ময়দা ১ টেবিল-চামচ, বেকিং পাউডার আধা চা-চামচ, খেজুরের গুঁড় বা রস মিষ্টি অনুযায়ী, পানি পরিমাণমতো, ডিম ২টি, এক চিমটি লবণ এবং তেল ১ কাপ।
তেল ছাড়া সবকিছু মিশিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এবার তেল গরম হলে গোল চামচে গোলা নিয়ে একটা একটা করে ভেজে তুলতে হবে।
৫৩. মালপোয়া : ময়দা ১ কাপ তেল, দই আধা কাপ, দুধ ২ লিটার গুড় বা চিনি ১ কা এলাচের গুঁড়া সিকি চা চামচ।
ময়দার সঙ্গে দই দিয়ে ফেটে অল্প পানি দিয়ে ঘন গোলা তৈরি করতে হবে।দুধ জ্বাল দিয়ে চিনি মিলিয়ে ঘন করে নামিয়ে রাখতে হবে এবং ওপরে এলাচের গুঁড়া ছড়িয়ে দিতে হবে। ময়দার গোলা গোল চামচে করে গরম তেলে ছেড়ে ভাজতে হবে। হালকা রং ধরলে নামিয়ে দুধে ছাড়তে হবে।
৫৪. খেঁজুর রসে মালপোয়াখেজুর রস ১ কেজি, ময়দা ২৫০ গ্রাম, ক্ষীর ১ কাপ, খাবার সোডা ১ চিমটি, মৌরি আধা চামচ, লবণ স্বাদমতো, ঘি ২৫০ গ্রাম। রস জাল দিয়ে ঘন করে নিয়ে ময়দা, ক্ষীর, মৌরি, খাবার সোডা, লবণ ও পানি দিয়ে ঘন গোলা তৈরি করতে হবে। চুলার হাড়িতে দেওয়া ঘি গরম হলে পিঠা ভেজে গরম গরম খেজুর রসে চুবিয়ে দিতে হবে।
৫৫. দই-মালপোয়া : আতপ চালের গুঁড়া ৩ কাপ ময়দা ১ কাপ খেজুরের গুড় ১ কাপ তরল দুধ ২ কাপ মিষ্টি দই ২ কাপ গোলাপজল ৩-৪ ফোটা তেল ভাজার জন্য কুসুম গরম দুধে চালের গুঁড়া, ময়দা, গুড় দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। তবে মিশ্রণ যেন বেশি পাতলা বা ঘন না হয়। কড়াইয়ে পরিমাণমতো তেল দিয়ে এক হাতা করে মিশ্রণ দিয়ে বাদামি করে পিঠা ভেজে তুলে রাখতে হবে। তারপর গোলাপজল দিয়ে মিষ্টি দই ফেটে তার মধ্যে মালপোয়াগুলো দিয়ে কিছুক্ষণ রাখতে হবে।
৫৬. রসবড়াকলাইয়ের ডাল ১ কাপ, চালের গুঁড়া আধা কাপ, নারকেল কোরানো ১ কাপ, চিনি ১ কাপ, ২টি এলাচ গুঁড়া, ভাজার জন্য তেল। শিরার জন্য: চিনি ১ কাপ, পানি ১ কাপ। জ্বাল দিয়ে শিরা তৈরি করে নিতে হবে। পুরের জন্য: নারকেল ও চিনি জ্বাল দিয়ে পুর বানাতে হবে।
ডাল সারা রাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। সেদ্ধ করে বেটে নিতে হবে। চালের গুঁড়া সেদ্ধ করে ডালবাটার সঙ্গে মিলিয়ে খুব ভালো করে মাখাতে হবে। হাতে ১ টেবিল চামচ ঘি নিয়ে এর সঙ্গে মাখিয়ে রেখে দিতে হবে। গোল গোল করে বড়ার মতো বানিয়ে মাঝখানে পুর ভরে ডুবো তেলে ভেজে শিরায় দিয়ে দু-তিন ঘণ্টা রেখে দিতে হবে।
৫৭. রসের ক্ষীরআতপ চাল ১ কেজি, খেজুর রস ৫ কেজি, এলাচ-৬/৭টি, কিশমিশ আধাকাপ। আতপ চাল ১ ঘণ্টা আগে ধুয়ে ভিজিয়ে রাখুন। হাতে কচলিয়ে চালটা একটু ভাঙা ভাঙা করে নিন। এবার খেজুর রসসহ সব উপকরণ চুলায় বসিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। ঘন হয়ে চাল ফুটে গেলে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন।
৫৮. কাউনের পায়েসকাউনের চাল ১ কাপ, লিকুইড দুধ ২ কেজি, গুঁড়া দুধ আধা কাপ, চিনি আধা কাপ, খেজুরের গুড় ১/৪ কাপ, আস্ত এলাচ ও দারুচিনি ৩/৪টি করে, কিসমিস, পেস্তাবাদাম কুচি ।
কাউনের চাল ভালো করে ধুয়ে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। ২ কেজি দুধ জ্বাল দিয়ে ১ কেজি করতে হবে। চাল ও গুঁড়াদুধ, আস্ত এলাচ-দারুচিনি দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। চাল ফুটে এলে চিনি দিতে হবে, নামানোর আগে খেজুরের গুড় গ্রেট করে মেশাতে হবে। গরম অবস্থায় বাটিতে ঢেলে কিছু বাদাম দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
৫৯.কাউনের পায়েসের পাটিসাপটাচালের গুড়া ২ কাপ, ময়দা আধা কাপ, লবণ পরিমাণমত, চিনি আধা কাপ, কর্নফ্লাওয়ার ২ টেবিল চামচ, পানি পরিমাণমত, কাউনের পায়েস ১ কাপ।
চালের গুঁড়া, ময়দা, চিনি, লবণ, পানি দিয়ে ঘন করে গোলা করে আধা ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এবার একটি ননস্টিক ফ্রাইপ্যানে হালকা তেল ব্রাশ করে সামান্য গোলা দিয়ে ছড়িয়ে মাঝে কাউনের পায়েস দিয়ে ভাঁজ দিতে হবে।
৬০. নতুন গুড়ের ফিরনি : দুধ ১ লিটার, পানি ১ কাপ, পোলাওয়ের চাল ১ মুঠ (২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে আধা ভাঙা করে নিতে হবে), গুড় (কুচি কুচি করে নেওয়া) আধা কাপ, মাওয়া আধা কাপ (নামানোর আগে), নারকেল কুড়ানো আধা কাপ, বাদাম সাজানোর জন্য। দুধ ও পানি জ্বাল দিয়ে নিন। বলক এলে অল্প অল্প করে চাল দিয়ে নেড়ে নেড়ে মিলিয়ে নিতে হবে। চাল ও দুধের মিশ্রণ যেন দলা না হয়। এবার এতে নারকেল মিশিয়ে অল্প আঁচে নেড়ে নেড়ে চাল সেদ্ধ করে নিতে হবে। সেদ্ধ হয়ে এলে ১ টেবিল-চামচ চিনি দিয়ে জ্বাল করে গুড় মেলাতে হবে। গুড় মিলিয়ে নেড়ে নেড়ে ঘন হয়ে এলে মাওয়া মিশিয়ে নামাতে হবে।
৬১. ফুল পিঠাচালের গুঁড়া ২ কাপ, লবণ ১ চা চামচ, সয়াবিন তেল ৬ কাপ, মুগ বা মাসকলাই ডাল ১ কাপ, ময়দা ২ কাপ, গরম পানি ৩ কাপ, জর্দার রং ১/২ চা চামচ, চিনি ১/২ কাপ।
মাসকলাই বা মুগডাল আগে সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে নরম হলে পাটাতে পিষে নিতে হবে। এবার চুলায় হাড়িতে পানি গরম করতে হবে। পানি ফুটে উঠলে তাতে একে একে ময়দা, চালের গুঁড়া ও ডাল বাটা দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। ঠান্ডা হলে জর্দার রং দিয়ে ভালো করে মেখে ময়দার ডো’টি মোটা করে রুটি বেলে একটি গোল ছাঁচ দিয়ে কাটতে হবে। এবার কাটা চামচ বা টুথপিক দিয়ে নকশা করে তেলে একটি একটি করে পিঠা ভেজে তুলতে হবে। গরম অবস্থায় উপরে চিনি ছিটিয়ে দিতে হবে।
৬২. রাবড়িকেসর এক চা চামচ গরম দুধে মিশিয়ে রেখে পেস্তা খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট ছিলকা কেটে নিতে হবে। এলাচ গুঁড়োর সঙ্গে পেস্তা মিশিয়ে একটা ডেকচিতে দুধ ভাল করে গরম করতে হবে। ফুটতে শুরু করলে আঁচ কমিয়ে ঘন করে নিয়ে দুধের মধ্যে চিনি, এলাচ-পেস্তা মিশ্রণ, কেসর দিয়ে আরও ৩ থেকে ৪ মিনিট ভাল করে ফুটিয়ে নিয়ে আগুন থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে ফ্রিজে ২ ঘণ্টা রেখে জমিয়ে নিতে হয়।
৬৩. কাটা পিঠা : চালের গুড়ো ২কাপ, আধ চা-চামচ লবন, কাই/ সিদ্ধ করার জন্য পানি পরিমান মতো।
চালের গুড়ো রুটির আটা যেভাবে সিদ্ধ করে সেভাবে সিদ্ধ করে ঠান্ডা হলে ভালো ভাবে মেখে ছোট ছোট পিঠা বানাতে হবে। কোল বালিসের আকৃতিরও বানালে কাটতে সুবিধা হয়। বানানো হয়ে গেলে একটি হাড়িতে অর্ধেক পানি দিয়ে চুলায় বসিয়ে স্টিলের ঝাঝরিতে পিঠাগুলো রেখে একটি প্লেট বা ঢাকনি দিয়ে ঢেকে ঐ গরম পানির হাড়ির উপর ১০ মিনিট পর বসিয়ে নামাতে হবে। গরম গরম পিঠা আপনি মাংসের ঝোল বা ঝোলা গুড় দিয়ে খাওয়া যায়।
৬৪. আমের ঝালপিঠাপাকা আমের ক্বাথ ১ কাপ, চালের গুড়া ১ কাপ, ডিম ১টা, ভাজা মরিচ গুড়া আধা চা-চামচ, ভাজা জিরা গুড়া আধা চা-চামচ, কাঁচামরিচ কুচি ১ টেবিল চামচ, ময়দা আধাকাপ, পানি আধা কাপ, চিনি ৩ টেবিল চামচ। ওপরের সব উপকরণ একসঙ্গে ভেজে ডুবো তেলে গোল গোল পিঠা করে ভাজতে হবে।
৬৫. ঝিনুক পিঠাচালের গুঁড়া ১ কাপ, তালের গোলা ১ কাপ, পানি আধা কাপ, তেল ভাজার জন্য আধা কাপ, চিনি ১ কাপ, পানি ১ কাপ। তালের গোলা পানি মিশিয়ে জ্বাল দিতে হবে। ফুটে উঠলে চালের গোলা দিতে হবে।কাই করে নিয়ে পরিমাণমতো গোলা নিয়ে হাতের তালুতে ডলে লম্বা করে প্লাস্টিকের ঝুড়িতে চেপে দাগ বসিয়ে নিয়ে মচমচে করে তেলে ভাজতে হবে।চিনি ও পানি জ্বাল দিয়ে সিরা করে পিঠাগুলো তেল থেকে তুলে সিরায় দিতে হবে।
৬৬. তালের রসবড়াতালের কাঁদ ঘন-১ কাপ, ময়দা-১/৪ কাপ, চিনি-২ কাপ, গোলাপজল-১ চা. চা., বেকিং পাউডার-২ চা. চা., লবণ-সামান্য, দুধ- ১ কাপ, ঘি-২ চা. চা., চালের গুঁড়া-১/২ কাপ, সয়াবিন তেল-পরিমাণমতো।
দেড় কাপ চিনি ও পানি দিয়ে সিরা তৈরি করে নিতে হবে। এরপর তালের কাঁদ ময়দা, ১/২ কাপ চিনি, গোলাপজল, বেকিং পাউডার, লবণ, দুধ, ঘি, চালের গুঁড়া ও পরিমাণমতো পানি দিয়ে গোলা তৈরি করে মালপোয়া আকারে ডুবো তেলে ভাজতে হবে। ভাজা হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সিরায় দিয়ে পরিবেশন করুন।
৬৭. তালের পাটি সাপটা তালের গোলা ১ কাপ,ময়দা আধা কাপ,চালের গুঁড়া ২ টেবিল চামচ,চিনি ২ টেবিল চামচ,ডিম ১টি
পুর-কোরানো নারকেল ১ কাপ, দুধের ক্ষীর আধা কাপ, চিনি আধা কাপ জ্বাল দিয়ে পুর তৈরি করে নিতে হবে।
পাকাতালের গোলার সঙ্গে বাকি সব উপকরণ মিলিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। এবার তাওয়াতে সামান্য ঘি লাগিয়ে হাতলে করে গোলা দিয়ে তাওয়া ঘুরিয়ে রুটি তৈরি করতে হবে। ওপরটা শুকিয়ে এলে পুর দিয়ে পাটির মতো রোল করে পিঠা তৈরি করতে হবে।
৬৮. তালের রুটিঘন তাল ২ কাপ, নারকেল কোরানো ১ কাপ, আটা ২ কাপ, গুড় ১ কাপ, লবণ ১ চা-চামচ, গুঁড়া দুধ আধা কাপ, ঘি ২ টেবিল-চামচ।
ওপরের সব উপকরণ একসঙ্গে মাখিয়ে খামির বানাতে হবে। এবার কলাপাতায় ঘি বা তেল মাখিয়ে রুটির মতো বিছিয়ে দিতে হবে। আরও একটি কলাপাতা দিয়ে রুটি ঢেকে দিতে হবে। পাতাসহ রুটি গরম তাওয়ায় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। অল্প আঁচে পাতা পোড়া পোড়া হওয়া পর্যন্ত ছেঁকে নিতে হবে।
৬৯. চিড়ার বরফিভাজা চিড়া ২ কাপ, চিনি ২ কাপ, নারিকেল কুরা ২ কাপ, ঘি ২ চা চামচ, কাজুবাদাম, কিশমিশ ও চেরি কুচি সাজানোর জন্য। প্রথমে ভাজা চিড়া গুঁড়া করে নিন। গুঁড়া করা চিড়া নারিকেল ও চিনি একসঙ্গে মেখে নিতে হবে। তারপর কড়াইতে মাখানো চিড়া দিয়ে নাড়তে হবে। আঠা আঠা হয়ে এলে থালায় ঘি মেখে ঢেলে দিন এবং চামচ দিয়ে সমান করে নিয়ে ঠাণ্ডা হলে ছুরি দিয়ে বরফির আকারে কেটে নিতে হবে।পরিবেশনের আগে কিশমিশ, কাজুবাদাম ও চেরি সাজিয়ে দেওয়া যায়।
৭০. চিড়ার পোলাওচিড়া ১/২ কেজি, পানি ১ কাপ, লবণ সামান্য, চিনি সামান্য, টেস্টিং সল্ট ১/২ চা চামচ, আলু কিউব কাটা ১/২ কাপ, গাজর বা পেঁপে কিউব কাটা ১/২ কাপ, তৈল ২ টেবিল চামচ, জর্দার রং সামান্য, পেঁয়াজ ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ১/২ চা চামচ। প্রথমে চিড়া হালকা পানি ও জর্দার রং মিশিয়ে তেলে ভেজে নিতে হবে। এবার অন্যপাত্রে আলু, পেঁপে, গাজর, লবণ ও টেস্টিং সল্ট দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। কড়াইতে তেল গরম করে তাতে একে একে পেঁয়াজ, সিদ্ধ সবজি ও ভাজা চিড়া দিয়ে নেড়ে নিতে হবে। এবার ১ কাপ, পানি দিয়ে ঢেকে ৫ মিনিট সিদ্ধ করে নিতে হবে। গরম গরম পরিবেশন করতে হবে মজাদার চিড়ার পোলাও।
৭১. চিড়ার লাচ্ছিচিড়া আধা কাপ, মিষ্টি দই দেড় কাপ, দুধ তিন কাপ, চিনি ১ টেবিল চামচ, ব্যানানা এসেন্স অল্প, লবণ সামান্য ও বরফ কুচি। চিড়া ভালো করে ধুয়ে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে। সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে গ্গ্নাসে বরফের টুকরো দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
৭২. চিড়ার লাড্ডুচিড়া ২৫০ গ্রাম, আখের গুড় ২৫০ গ্রাম, আস্ত এলাচ ও দারুচিনি ৩/৪টি, পানি আধা কাপ।
চিড়া ভাল করে পরিষ্কার করে মচ মচ হওয়া পর্যন্ত টেলে নিতে হবে। আখের গুড়, আস্ত এলাচ-দারুচিনি পানি দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। সিরা আঠালো হলে হালকা ঠাণ্ডা করে গরম অবস্থায় চিড়া-গুড় মাখিয়ে সামান্য ময়দা ছিলিয়ে গোল গোল লাড্ডু বানাতে হবে।
৭৩. রুমালী রুটিচালের গুঁড়া এক বাটি, আদা বাটা আধা চা-চামচ, পেয়াঁজ বাটা এক চা-চামচ, ডিম ২টা, লবণ স্বাদমত, তেল সামান্য। চালের গুঁড়ায় আদা, রসুন, পেঁয়াজ বাটা, লবণ ও ডিম ভেঙে এবং এক বাটি পানি দিয়ে একদম পাতলা করে একটি মিশ্রণ তৈরি করে তা ফ্রাইপ্যান বা মাটির হাঁড়ি বা পিচ্ছিল কড়াইতে তুলা দিয়ে তেল মুছে এক চামচ (ডালের চামচ) করে মিশ্রণটি কড়াইতে ভালো করে ছড়িয়ে ঢেলে দিতে হবে। এক মিনিট ঢেকে রেখে একটু মচমচে হলে তা নামিয়ে যে কোনো রকম ভর্তা, মাংস বা কলিজা ভুনা দিয়ে খাওয়া যায়।
৭৪. খেজুর রসে চুই পিঠাচালের গুঁড়া ২০০ গ্রাম, খেজুর রস এক লিটার, এলাচি ও দারুচিনি দুই/তিনটা করে, তেজপাতা ২টা, নারিকেল কোরানো এক বাটি।
চালের গুঁড়া সেদ্ধ করে ছোট ছোট লেচি তৈরি করে এক একটা লেচি দিয়ে ছোট ছোট সেমাই/চুই পিঠা তৈরি করে নিতে হবে। চুলায় একটি হাঁড়িতে খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে এবং তাতে এলাচি, দারুচিনি ও তেজপাতাও দেবেন। সেমাই বা চুই পিঠা বানানো হয়ে গেলে রস হালকা রং ধারণ করলেই তাতে পিঠাগুলো ছেড়ে দিয়ে ১০ মিনিট সিদ্ধ করতে হবে।
৭৫. মাংসের পিঠামাংসের কিমা ১ কাপ, পেঁয়াজকুচি ১ কাপ, ধনেপাতা ১ টেবিল-চামচ, গরম মসলা গুঁড়া ১ চা-চামচ, আদা বাটা ১ চা-চামচ, রসুনবাটা আধা চা-চামচ, তেল ভাজার জন্য, লবণ স্বাদমতো, আতপ চালের গুঁড়া ৩০০ গ্রাম।
সসপ্যানে লবণ ও পানি জ্বাল দিয়ে তাতে বলক উঠলে চালের গুঁড়া দিতে হবে। মৃদু আঁচে ঢাকনা দিয়ে তিন-চার মিনিট দমে রেখে ভালোভাবে নেড়ে চুলা থেকে নামিয়ে কিছুটা গরম অবস্থায় মাখিয়ে নিতে হবে। ছোট ছোট লেচি কেটে রুটি আকারে বেলে নিয়ে ফ্রাইপ্যানে ৪ টেবিল-চামচ তেল দিয়ে তাতে কিমা, পেঁয়াজ, আদাবাটা, রসুনবাটা, গরম মসলা, ধনেপাতা, লবণ দিয়ে একটি পুর তৈরি করে ঠান্ডা করে নিতে হবে। রুটির টুকরোর ভিতর পুর দিয়ে পছন্দমতো আকার গড়ে ডুবোতেলে ভেজে সস দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

Post a Comment

أحدث أقدم