রংপুর চিনিকলে জমি বিরোধ: সাঁওতালদের হামলাকারী বলল মন্ত্রণালয়
পাকিস্তান আমলে রংপুর চিনিকলের নামে অধিগ্রহণ জমি উদ্ধারে আন্দোলনরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাঁওতালদের হামলাকারী বলে মন্তব্য করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়।
আজ মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত নথিতে এই মন্তব্য করা হয়েছে। তবে সংসদীয় কমিটি শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে বলেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, অধিগ্রহণ করার পর থেকে এসব জমির মালিক সরকার। কেউ জোর করে দখল করতে পারে না। তবে সরকার যদি মনে করে এসব জমি তাদের কাজে লাগবে না, সেক্ষেত্রে তারা চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত আগের মালিকদের কাছে জমি ফেরত দিতে পারে। সে জন্য কমিটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধ সমাধান করতে বলেছে।
অভিযোগ আছে, ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান সরকার গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের রামপুর, সাপমারা, মাদারপুর, নারেঙ্গাবাদ ও চকরহিমাপুর মৌজার ১ হাজার ৮৪২ একর জমি রংপুর চিনিকলের (মহিমাগঞ্জ) নামে অধিগ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে ১৯৫৬ সালের মধ্যে ১৫টি আদিবাসী গ্রাম ও পাঁচটি বাঙালি গ্রাম উচ্ছেদ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী অধিগ্রহণ করা জমিতে আখ চাষ করার কথা। কিন্তু চিনিকল কতৃর্পক্ষের দুর্নীতির কারণে সরকার ২০০৪ সালের ৩১ মার্চ কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে কতৃর্পক্ষ অধিগ্রহণ করা জমি বাহিরাগত প্রভাবশালীদের কাছে ইজারা দিতে শুরু করে। ইজারাদাররা সেখানে তামাক, ধান ও গমের চাষ শুরু করেন। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন গত ১০ মে সরকারের কাছে ওই এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। এর প্রতিবাদের এবং নিজেদের জমি ফেরত পেতে ক্ষতিগ্রস্তরা আন্দোলনে নেমেছেন।
আজ সংসদীয় কমিটিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত নথিতে বলা হয়েছে, ৩০ জুন সাওতাল বিদ্রোহের ১৬১ তম বছর উপলক্ষে খামার এলাকায় একটি মহল বাপ-দাদার জমি ফেরত দেওয়ার দাবিতে সমাবেশ করে। এরপর তারা ১০০-১৫০ একর জমি দখল করে অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি করে। পুলিশের সহযোগিতায় প্রশাসন জমি উদ্ধার করতে গেলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাঁওতালেরা তীর-ধনুক নিয়ে আক্রমণ করে। এতে পুলিশসহ কয়েকজন আহত হন।
তবে চিনিকল কর্তৃপক্ষ যে ৫১ জন আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা করে তাদের হয়রানি করছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নথিতে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এমন কি আন্দোলনরত ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে যে বাঙালিরাও আছে, সে বিষয়েও কিছু বলা হয়নি।
ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য আবদুর রাজ্জাক, হাবিবুর রহমান মোল্লা, এম এ মালেক ও আবুল কালাম মো. আহ্সানুল হক চৌধুরী বৈঠকে অংশ নেন।
আরও পড়ুন:
সাঁওতাল-চিনিকল কর্তৃপক্ষ মুখোমুখি
إرسال تعليق